পাটের মতো চামড়া শিল্পও ধ্বংস করছে আওয়ামী সিন্ডিকেটঃ মন্তব্য রিজভীর

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী সিন্ডিকেট চামড়ার দাম কমিয়ে ট্যানারি শিল্প ধ্বংস ও গরীব-মিসকিনদের হক মারছে।

দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার অজুহাতে অনির্বাচিত আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট চামড়া নিয়ে কারসাজি করছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এই চক্রের স্বার্থ রক্ষা করছে নিশুতি সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চামড়ার বর্গফুট প্রতি একটা হাস্যকর দাম বেঁধে দিয়ে তাদেরকে সহায়তা করছে। এই অল্প দামের কারণে চামড়া ব্যাপকভাবে পাচার হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশে।

এই বিএনপি নেতা বলেন, সিন্ডিকেট করে এতিমের হক মারার এ কাণ্ড-কারখানা যারা চালাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে তারাও নিজেদের ধার্মিক বলে প্রচার করে। এদের হোতা সরকারী দলের এক বড় নেতা।

তিনি বলেন, যেভাবে পাট শিল্প ধ্বংস করা হয়েছে ঠিক সেই পথেই ধ্বংস করা হচ্ছে বাংলাদেশের ট্যানারি শিল্প। প্রশ্ন করবার কেউ নাই। জবাব দেয়ার কেউ নাই। সুইস ব্যাংকে আর কত টাকা পাঠানো সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের জনগণ মুক্তি পাবে! আজ সুষ্ঠু নির্বাচনকে দূরে ঠেলে জনগণের সরকার নেই বলেই এভাবে জনগণের সর্বনাশ করা হচ্ছে।

রিজভী বলেন, কুরবানির পশুর চামড়ার টাকা গরীব, মিসকিন, ইয়াতিমদের হক। এই চামড়া বিক্রির টাকা তাদের মাঝেই বিতরণ করার নিয়ম। এটা তাদের ঈদের আনন্দের একটা উৎস। বিএনপি সরকারের সময়ে এদেশে যে চামড়া কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি হতো এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২/৩ শ’ টাকায়। ৮০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়ার দাম এখন ২২০ টাকা!!এক লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ২২৫ টাকায়। সব জিনিসের দাম হু হু করে বাড়লেও দফায় দফায় কমতে কমতে দশ ভাগের এক ভাগে নেমেছে গরীব-মিসকিনের হক এই কাঁচা চামড়ার দাম। এমন করুণ অবস্থা দেখে, নীরব প্রতিবাদ হিসাবে সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি না করে কোরবানির চামড়া মাটির নিচে পুঁতে রাখছেন অনেকে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ার কারণে বহু মানুষকে পথে ঘাটে ঈদ করতে হয়েছে। স্বস্তি ছিলনা ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রায়। আর এদিকে সরকারের কতিপয় মন্ত্রী এই ঈদযাত্রায় মানুষের চরম কষ্ট ক্লান্তি -মহাদুর্ভোগ নিয়ে রীতিমত কদর্য ঊপহাস করেছে।নোয়াখালীর নিজ গ্রামে ঈদের নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “মানুষ স্বস্তিতে বাড়িতে ফিরেছে। একইভাবে স্বস্তিতেই কর্মস্থলে ফিরে যাবে। তিন দিন আগে যখন মহাসড়কে প্রায় শত কিলোমিটারের দীর্ঘ যানজট আর ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ে পড়ে মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট করেছেন তখন ওবায়দুল কাদের সাহেবকে আমরা বলতে শুনেছি -“বাংলাদেশের মানুষ ঈদযাত্রার দুর্ভোগকে দুর্ভোগ হিসেবে মনে করে না। এটা তারা ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে মনে করে’। “ঈদের আনন্দে মানুষ ডেঙ্গু ভুলে গেছে’।” (সূত্রঃ ইনসাফ ২৪)

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *